স্বাধীনতা দিবস – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

************************************** এফ এম রেডিও জকি স্যামের খুব নাম ডাক। আসল নাম শ্যামলেন্দু সরকার। কিন্তু ওই নামে appeal নেই। তাই নাম পাল্টে স্যাম করতে হয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে সামনে। আজকাল আর পাঁচটা জিনিসের মতো ওটাও পণ্য। একটা রোড শো করতে হবে। যে কোনো কথায় মজা খুঁজে বের করে লোকেদের নিয়ে খোরাক করাই স্যামের ইউ এস পি। আজ …

Read More

রাখি পূর্ণিমা – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

************************************************ উত্তর প্রদেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই গ্রামটা। নাম বালদেওপুর। সেখানেই ছেলেটার বাড়ি। ছেলেটাকে সবাই আদর করে মুন্না বলে ডাকে । বাপ্ মায়ের বড় আদরের একমাত্র সন্তান। পরিবারের চোখের মনি। বয়স হবে সাত কি আট । কিন্তু এর মধ্যেই দারুন চৌখস। স্কুলে ফার্স্ট হয়। সবাই বলে বড় হয়ে মস্ত ডাক্তার হবে আর বাবা মায়ের মুখ …

Read More

বন্ধু  – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

(হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ ডে) ************************ -“তুমি আমার বন্ধু হবে ? ” প্রশ্নটা যে করলো তার বয়েস সাত আর যাঁকে করা হলো তাঁর তেষট্টি। প্রৌঢ় ভদ্রলোকের নাম বিশ্বমোহন চক্রবর্তী। সবাই ডাকে বিশুবাবু বলে। অবশ্যি সেটা কোলকাতায় ভবানীপুর অঞ্চলে । এই পান্ডব বর্জিত দেশেতাঁকে কেউ চেনে না। এই জায়গাটার নাম পিয়ালতলি। পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম। পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গাটা কেন যে ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির অগোচরেথেকে গেছে সেটাই ভেবেছিলেন একটা শীর্ন কায়া নদীর পাড়ে  বসে। আর ঠিক তখনি ছেলেটার আবির্ভাব ও তার প্রশ্নে বিশু বাবুর ধ্যান ভঙ্গ। বিশুবাবু জিগেস  করলেন , “কি নাম তোর?” ছেলেটা বললো , “লখাই  ” -” কোথায় থাকিস ?” – ” এই গাঁয়েতেই থাকি। হুই দূরে যে ইস্কুলবাড়ি আছে। ওখানেই আমাদের ঘর।  বাবা ইস্কুলের দারোয়ান। ” -” কোন ক্লাসে পড়িস ?” -” আমি ইস্কুলে পড়িনা গো। বাপের পয়সা নাই। ” -” তোর বাবা স্কুলের দারোয়ান আর তুই স্কুলে পরিসনা ?” এর কোনো উত্তর না দিয়ে লখাই হিহি করে হাসতে লাগলো।  যেন কতইনা মজার কথা বলা হয়েছে। সে আবার জিগেস করলো ,” আমার বন্ধু হবে ?” বিশুবাবু বললেন ,” কেন তোর বন্ধু নেই ?” লখাই বললো ,” আছে তো। হারু , মানিক , গোপাল , নাটু এরা সবাই আমার বন্ধু ” -“তাহলে এই বুড়োর সাথে বন্ধু পাতাচ্ছিস কেন ? -“তোমার কোনো বন্ধু নেই বলে। একা থাকা খুব কষ্টের ” মুহূর্তের মধ্যে বিশুবাবুর মনে এক লক্ষ বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। কি বলছে ছেলেটা। ও কি অন্তর্যামী ? ও কিকরে বুঝেনিলো বিপত্নীক বিশুবাবুরমনের একাকিত্ব। স্ত্রীর মৃত্যুর পর এক ছেলে প্রায় একঘরে করে রেখে দিয়েছিলো বৃদ্ধ বাবাকে।  সংসারে কিছু জিনিস থাকে যা ফেলাও যায়না আর রাখতেও কষ্ট।তাদের মধ্যে বিশুবাবু ছিলেন একজন। যখন তিনি মোটামুটি নিজেকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন তখন একদিন কাউকে না বলে খুবভোরে হাওড়া থেকে চেপে বসলেন রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে। এই জায়গাটার নাম সাজেস্ট করেন বিশুবাবুর বন্ধু নরেন সমাদ্দার। । প্রকৃতির মাঝেশান্তি খুঁজতে বেড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। এতক্ষনে লখাই এসে বিশুবাবুর পাশে বসেছে। বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের সোনালী আভায় নদীর জল গলিত অলংকারের প্রবাহমান ধারার মতো বয়েচলেছে। পাখিরা তাদের ঘরে ফেরার উচ্ছাসে কলকাকলিতে ভরিয়ে দিয়েছে বিকেলের বাতাস। দূরে একটা পাথরের ওপর দুটো অসম অবয়ববিশিষ্ট ছায়া মূর্তি তাদের কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো লখাই বিশুবাবুকে নদীর উৎস বর্ণনা করছে  আবার কখনো বিশুবাবু লখাইকেবোঝাচ্ছেন বিভিন্ন ঋতুতে নদীর চরিত্র কিভাবে বদলায়। অন্ধকার আরও ঘনিয়ে এলে লখাই বললো “চলেন বাবু। এখানে আর বসবো না।” বিশুবাবু বললেন ,” আমি এবার ট্রেন ধরবো রে। আবার পরেএকদিন আসবো ” লখাই বললো ,” নানা বাবু। আজ যাওয়া হবে না। তুমি কাল যেও। আজ আমাদের বাড়ি চলো। ” নতুন বন্ধুর অনুরোধ রাখতেই হলো বিশুবাবুকে। স্কুলঘরের পাশে সারি দেয়া ছোট ছোট বাড়ি। তারই একটা লখাইদের। বিশুবাবুকে লখাই বললো ,” আপনি বসেন আমি বাবাকে নিয়ে আসছি ” লখাইয়ের বাবা শিবনাথ তখন ইস্কুলের দরজায় তালা দিচ্ছে। তাকে গিয়ে লখাই বললো ,”বাবুটা  এসেছেন। চলো ” শিবনাথ তাড়াতাড়ি করে ঘরে এসে দেখলো বিশুবাবু বসে আছেন। তাঁকে একটা প্রণাম করে শিবনাথ বললো,” আজ্ঞে আমায় চিনতে পারছেনবাবু ?” ভালো করে দেখলেন বিশুবাবু। কই  না তো। চেনা যায়না। -” আমি শিবনাথ বাবু।  আপনাদের বাড়ির দারোয়ান গোপিনাথের ছেলে ” -“শিবনাথ তুই ?” চমকে উঠলেন বিশু বাবু। মুহূর্তের মধ্যে সব মনে উড়ে গেলো। বাড়ির দারোয়ান গোপীনাথকে গ্রাম থেকে নিয়ে গিয়েই চাকরি দিয়েছিলেন।ছেলে শিবনাথকে অসম্ভব ভালোবাসতেন তাঁর স্ত্রী সৌদামিনী। একরকম সৌদামিনীর উদ্যোগেই শিবনাথকে একই স্কুলে ভর্তি করান নিজেরছেলে সুধীন্দ্রের সাথে। দারোয়ানের ছেলেকে বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতে তার ছিল ঘোর আপত্তি। শেষে একদিন স্পষ্ট সে বাপকে জানিয়ে দিলোবাড়িতে হয় শিবনাথ থাকবে নয় সে। অন্ধ পুত্র স্নেহের বশবর্তী হয়ে দরোয়ান গোপীনাথকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দিলেন। গোপীনাথ পিয়ালতলি ফিরে এলো ছেলে শিবনাথকে নিয়ে।সৌদামিনী খুবই আঘাত পেয়েছিলেন কিন্তু বিশুবাবুর কাছে সে আঘাত তার পুত্র বাৎসল্যের চেয়ে বড়  নয়। বিশুবাবুর চোখে জল। শিবনাথের দু হাত ধরে বললেন ,” আমায় ক্ষমা করে দে শিবু। ভগবান আমায় শাস্তি দিয়েছেন। আমার ছেলেটা শিক্ষিতহয়েছে কিন্তু মানুষ হয়নি। আজ ওই বাড়িতে আমার অবস্থা অনেকটা গোপীনাথের মতো ” শিবনাথ হাঁটু মুড়ে নিচে বসে বললো এ কি   বলছেন বাবু। আমার কাছে ক্ষমা চাইছেন ?আমার পাপ হবে যে। আপনি আমার বাবার মতো।সকালেই আপনাকে দেখে চিনতে পেরেছিলাম। ভয়ে ডাকিনি। ছেলেটাকে এসে বললাম কলকেতের বাবু এসেছে। ও বললো আমি বাবুকে নিয়েআসছি ” বিশুবাবু লখাইকে বুকে টেনে নিলেন। তার চোখ থেকে জল ঝরেই চলেছে। লখাই বললো ,” তুমি আর বাড়ি যেওনা। ওখানে তোমার কষ্ট হয়। তুমিআমার সাথে থাকো। আমি তোমার বন্ধু হব। ” বিশুবাবু চোখের জল পাঞ্জাবির আস্তিন দিয়ে মুছে বললেন , “থাকতে পারি যদি তুই আমায় একটা কথা দিস” -“কি কথা ?” লখাই জিগেস করে -“তুই যদি আবার স্কুলে যাস ” লখাই চোখ গোল গোল করে বলে “টাকা পাবো কোথায় ?” বিশুবাবু এবার মুখে একটা হাসি এনে বললেন ,” কেন তোর বন্ধু আছে তো। বন্ধুদের কথা দিলে রাখতে হয় কিন্তু। কিরে যাবি তো ?” লখাই কোনো উত্তর না দিয়ে দরজার দিকে দৌড়োতে শুরু করলো। বিশুবাবু চিৎকার করে বললো ,” কোথায় যাচ্ছিস লখাই ?” লখাইকে আর দেখা যাচ্ছে না। বাইরে থেকে শুধু একটা উত্তর এলো ,”কাল  ইস্কুলে যাবো ,হারুর কাছে আমার সহজ পাঠ বইটা আছে ওটা নিয়েআসি। তুমি একটু বসো বন্ধু ” ****************************************************************************************************** – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

দিলদার আলী – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

********************************** (Lucknow- 4.8.2017) ********************************** অফিসের কাজে প্রায়ই আমার বাইরে যেতে হয়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত এ ভাবেই ঘোরা হয়ে যায়। তো এবার কাজে এসেছি লক্ষ্নৌতে। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্নৌ। লক্ষণের দেশ লক্ষ্নৌ। আগে এসেছিলাম একবার। সেটা বছর দশেক আগে। তার থেকে অনেকটাই বদলে গেছে শহরটা। বেশ একটা নিউ এজ টাইপের হ্যাপেনিং ব্যাপার এসেছে “জনাব ” আর …

Read More

ফেলুদা ফিরে এলো  —— শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

  ****************************************************** –১– বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক লালমোহন গাঙ্গুলী ওরফে জটায়ুর কোনো পাত্তা নেই। তাঁর এই prolonged absence -এর কারণ ফেলুদাকে জিগেস করাতে ও বললো যে গত দুদিন ওটা নিয়েই ভেবেছে। ভদ্রলোক মোবাইল ব্যবহার করেননা আর ল্যান্ড ফোনটাও সম্ভবত খারাপ। ফেলুদা বললো, ” আজ একবার ওঁর গড়পাড়ের বাড়িটা ঢুঁ মেরে আসবো। রেডি …

Read More

উল্টোরথ – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

  অমিতাভ দাশগুপ্ত ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে একবার আড়চোখে দেখে নিলো টিকিট ঘরের গায়ে কৃষ্ণচূড়া গাছটাকে। তারপর হাতব্যাগটা গলায় ঝুলিয়ে ,ওভারব্রিজটা পেরিয়ে যখন সে স্টেশনের বাইরে এলো তখন বুঝলো যে গাছটার নিচে একটা ছোটোখাটো মেলা বসেছে। উল্টো রথের মেলা। জায়গাটার নাম কেয়াঝোরা। সিঙ্গল লাইন ট্রেন। একটা সকালে আর একটা বিকেলে। সকালের ট্রেনটা ধরে অমিতাভ কলকাতা …

Read More

লেখা চুরি – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

***************************** “দিবালোক” পত্রিকার সম্পাদক বিপুল মজুমদার চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালেন। রাত আটটা সতেরো। সাড়ে আটটায় টিভি সিরিয়ালটা শুরু হয়। বিপুল বাবু ওটা নিয়ম করে দেখেন। পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়াও গোটা দুয়েক বই লিখেছেন। গত বইমেলায় একটা উপন্যাস বেরিয়েছে কিন্তু সে ভাবে চলেনি। লেখাটা যে নেহাৎ মাঝারি মাপের সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও …

Read More

পরিমলের পরিণতি – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

************************************************* পরিমল বাবু বগলে লম্বা ছাতা আর হাতে একটা চেন টানা হাত ব্যাগ নিয়ে দুগ্গা দুগ্গা বলে বাড়ি থেকে বেরোলেন। বাড়ির পাশেই পানের দোকান। সেখানে দু মিনিটের বিরতি। একটা মিঠে পাতা , সাদা পান মুখে পুরে রওনা হন অফিসের দিকে। বয়স প্রায় বাষট্টি কিন্তু খাতায় কলমে ঊনষাট । তাই রিটায়ারমেন্টের এখনো কিছু দিন বাঁকি আছে। …

Read More

আরতি মাসি –

******************************************** “আরতি মাসির রান্নাটা দিনে দিনে অসহ্য হয়ে উঠছে। ওকে এবার বিদায় করো। ” এই বলে খাবার ছেড়ে উঠে গেলো অপু। অপুর স্ত্রী মন্দিরা অনেক বোঝাবার চেষ্টা করলো একটু খেয়ে নিতে কিন্তু অপু অনড়। ওই খাওয়া মুখে তোলা যায়না। মুখ ধুয়ে তোয়ালেতে হাত মুছতে মুছতে অপু বললো , ” অনেক বয়েস হয়েছে। রিটায়ারমেন্ট বলেও তো …

Read More

সবুজের আদালতে –

– “ধর্মাবতার ! এটা পরিকল্পিত ভাবে খুন। অত্যন্ত নৃশংস একটি ঘটনা। আমি আসামী  দিগম্বর পুততুন্ডুকে ফাঁসির জন্য আবেদন জানাচ্ছি !”এই অবধি বলে উকিল থামলেন । ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছে দিগম্বর। এমনটা ঘটবে সে ভাবতেও পারেনি।  এটাকে কি খুন বলা চলে ? যার জন্য আজ সে মৃত্যুদণ্ডের সামনেদাঁড়িয়ে। বিচারক প্রশ্ন করলেন ,” কই কি দিয়ে …

Read More