যেখানে বাঘের ভয় – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

********************************************

Profile

( লালগড় জঙ্গলে বাঘ বেরোনোর ঘটনাটা সত্যি হলেও গল্পটি পুরোটাই কাল্পনিক )

সোমনাথ ল্যাপটপটা বন্ধ করতে করতে নিজের মনে মনেই বলে উঠলো ,” ধুর ধুর এই চাপ আর নেয়া যায়না। এই টার্গেটের চক্করে যৌবনটাই চলে গেলো। কিছুই করে উঠতে পারলামনা।”

কৌশিক হালকা হেসে বললো ,”কদিন কোথাও চল ঘুরে আসি। সামনে হোলি। টানা ছুটি রবিবার অবধি। ”

সুজয় সমর্থন করে বললো ,”আমি একমত। তবে আমরা তিনজন। নো ফ্যামিলি বিজনেস !”

সোমনাথও একবাক্যে মেনে নিয়ে বললো ,”গুড আইডিয়া। কিন্তু দিঘা আর শান্তিনিকেতন বাদ। অন্য কোথাও বলো।”

নানা জায়গার নাম আসতে লাগলো হু হু করে। তার মধ্যে বহরমপুর থেকে ব্যাঙ্কক পর্যন্ত আছে। অবশেষে খরচ আর যাতায়াতের সুবিধা মাথায় রেখে ঠিক হলো ওরা ঝাড়গ্রাম যাবে। ওই দিকটায় তিনজনের কারো যাওয়া হয়নি। জঙ্গলে ঘেরা শান্ত পরিবেশে তিনটে দিন মন্দ না। ওখানে সেরকম ইন্টারনেট নেই। তাই মেল থেকে মুক্তি। বৌয়ের চোখ রাঙানি নেই তাই বেপরোয়া উদ্দাম জীবনযাপন। পুরো জি লে আপনি জিন্দেগী টাইপের ব্যাপার।

ঠিক হলো সোমনাথের নতুন কেনা গাড়িতেই যাওয়া হবে। তিন জনেই ড্রাইভ করতে পারে। পালা করে চালাবে।

দোলের দিন ভোর পাঁচটায় ওরা রওনা হলো। প্রথম দিকটা সোমনাথই চালাল খড়্গপুর অবধি। খড়্গপুরে ওরা পৌঁছলো সকাল সাড়ে আটটার একটু আগে। একটা ধাবায় বসে জল খাবার খেয়ে নিয়ে সোমনাথ সবে সিগারেটটা ধরিয়েছে তখনই পাশে একটা জটলা থেকে ”বাঘ” কথাটা কানে এলো। সোমনাথ কান খাড়া করলো। এবার আরেকটা কথা কানে এলো। সেটা হলো “ঝাড়গ্রাম” । সোমনাথ কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেলো জটলাটার দিকে আর যা শুনলো তাতে একটা ভয় আর উত্তেজনা মেশানো অনুভূতি হলো তার। এক দৌড়ে গিয়ে জিলিপিতে সবে কামড় বসানো কৌশিককে ডাকলো। সুজয় দাম দিচ্ছিলো খাবারের। সোমনাথের চোখমুখ দেখে সেও আন্দাজ করলো কিছু একটা ঘটেছে। দুজনেই কাছে আসতে সোমনাথ জানালো ,ঝাড়গ্রামের লাগোয়া যে লালগড়ের জঙ্গল আছে সেখানে বাঘ দেখা গেছে। এলাকায় আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। এরমধ্যে কিছু গবাদি পশু জখম হয়েছে।

কৌশিক পুরো ব্যাপারটাই গুজব বলে উড়িয়ে দিলো। সুজয় বললো ,”ছাড় না। আমরা জঙ্গলে না গেলেই হলো। বাঘ তো আর লোকালয়ে আসবেনা “

এরমধ্যে সোমনাথ একটা খবরের কাগজ কিনে ফেলেছে। তার প্রথম পাতাটা মেলে ধরলো কৌশিকের সামনে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় বাঘের ছবি সমেত খবর বেরিয়েছে। যার শিরোনাম “ ঝাড়গ্রাম -যেখানে বাঘের ভয়।” এরপর আর যাই হোক ব্যাপারটা গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া গেলো না।

ঝাড়গ্রামে পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সাড়ে নটা বেজে গেলো। যেদিকেই কান যাচ্ছে সেখানেই শুধু বাঘ নিয়ে আলোচনা। লালগড়ের জঙ্গল মানে যেখানে বাঘ মশাই দর্শন দিয়েছেন সেটা প্রায় চল্লিশ মিনিটের পথ গাড়ি নিয়ে গেলে। কংসাবতী নদী পেরিয়ে , ধেরুয়া -লালগড়—পিরাকাটা রোড দিয়ে এগোলে কদমডিহা বলে একটা জায়গা পরে। তারপরেই মহুলবনী যেটা থেকে লালগড়ের জঙ্গল শুরু। অতএব বাঘকে হোটেল অবধি আসতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে।

ঘরে ব্যাগ পত্তর রেখে ওরা তিনজন সামনেই বাজারে গেলো। সোমনাথ সিগারেট কিনবে আর বাকিরা সুরা সন্ধানে। উদ্দাম ,বেলাগাম জীবনের আয়োজনের কোনো ত্রুটিই রাখতে চায়না তারা।

বাজারেও সেই একই গল্প। “বাঘ। ” তার সাথে যোগ হয়েছে দাঁতাল হাতি। কোথা থেকে হাতি ঢুকে বাঘের ছবি তোলার ক্যামেরা ভেঙে দিয়েছে। তাই দক্ষিণরায়ের গতিবিধি আর পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছেনা। বনকর্মীদের মাথায় হাত। বনকর্মীদের অনুমান পড়শী রাজ্য উড়িষ্যার সিমলিপাল জঙ্গল থেকে আবির্ভাব হয়েছে বাঘ বাবাজির। হোটেলে ফিরেও সেই একই আলোচনা। কৌশিক বলেই ফেলল ,”এ যেন বাঘের সাথে বেড়াতে এসেছি। বেকার প্যানিক সৃষ্টি করছে। ”

সুজয় শেষে না পেরে হোটেলের ম্যানেজারকে জিগেশ করে বসলো ,”মশাই বাঘকে এড়িয়ে যাওয়া যায় এমন এখানে কিছু জায়গা আছে ?“

ম্যানেজার একটা খড়কে দিয়ে দাঁত খুঁচাচ্ছিলেন। সুজয়ের প্রশ্ন শুনে চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে বললেন, “ কাছেই কনক দুর্গার মন্দির। যান ঘুরে আসুন। ভালো লাগবে। এখান থেকে বারো কিলোমিটার। কাছেই চিল্কিগড় রাজবাড়ী। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ডুলুং নদী। গাড়ি নিয়ে কাল ঘুরে আসুন।”

ঠিক হলো পরদিন যাওয়া হবে কনক দুৰ্গা মন্দিরে। ডুলুং নদী নামটা বেশ সুন্দর। অনেকটা পাহাড়ি নদীর নামের মতো। আর কনক দুর্গা ব্যাপারটাও বেশ ইন্টারেষ্টিং।

রাতে খানা কম আর পিনা বেশি হবার ফলে তিনজনের ঘুম ভাঙতে বেশ বেলা হয়ে গেলো। বেলা বারোটায় ভারী জল খাবার খেয়ে ওরা বেরিয়ে পড়লো। গন্তব্য কনক দুর্গা মন্দির।

কিছুটা এগোতেই গাছ পালা আরও ঘন হয়ে উঠলো। আর আরও কিছুক্ষন পর ওরা বুঝলো এটাকেও একটা ছোটোখাটো জঙ্গল বলাই চলে।যে রাস্তা দিয়ে গাড়ি ছুটে চলেছে তার নাম ঝাড়গ্রাম -জামবনি রোড। সেটা গেছে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। সেটা পেরোলেই জামবনি আর তারপরই বেলবোরিয়া পেরোলেই মন্দির।

গাড়ি যখন জঙ্গলের মধ্যে তখন সোমনাথ খেয়াল করলো গাড়িতে পেট্রল সীমিত আর লো ফুয়েল ইন্ডিকেটর ল্যাম্প জ্বলে উঠেছে। গাড়িটা দাঁড় করিয়ে সোমনাথ বললো ,”একটু বোস। ক্যানে ১০ লিটার তেল আছে। ঢেলে নি।”

সুজয় মৃদু আপত্তি জানিয়ে বললো ,”জঙ্গলটা পেরিয়ে যা করার কর। এটা রিস্কি হয়ে যাবে। ”

কৌশিক সুজয়ের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বললো ,” বাঘ আছে লালগড়ের জঙ্গলে। সেটা অনেকটা পথ। এই জঙ্গলে খুব বেশি হলে কয়েকটা ভাম বেড়াল পেতে পারিস। ”

ততক্ষনে সোমনাথ গাড়ি দাঁড় করিয়ে নেমে পড়েছে। কৌশিক নেমে একটা সিগেরেট ধরিয়েছে। সুজয় তখনো গাড়িতে। কৌশিক কাঁচে টোকা মেরে বললো ,”একবার নেমে আয়। এরকম নিস্তব্ধতা চিরে পাখি আর ঝিঝির ডাক আর শুনতে পাবিনা। ”

সুজয় কি ভেবে নেমে পড়লো। নিচে শুকনো পাতা। সামনে সেই পাতার-ই একটা ঢিবি। কেউ যেন পরম যত্নে পাতা গুলোকে একত্র করে স্তুপ করে রেখেছে।

তিনজনে সেই অরণ্যানীর নৈসর্গিক শোভাতে মোহিত হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। একটা গন্ধ ভেসে আসছে। অনেকটা সোঁদা মাটির গন্ধের মত। তবে আরো তীব্র। গাড়িতে হেলান দিয়ে তিনজন। সোমনাথ আর কৌশিকের হাতে সিগারেট। সামনে পাতার ঢিবি আর তার পরেই একটা কাঁচা রাস্তা। যেটার পরে গাছের সারি। সুজয় বললো ,”ভাই জঙ্গল কিন্তু নো স্মোকিং জোন। ” সোমনাথ বললো ,”কই কোনো নো স্মোকিং সাইন বোর্ড নেই তো !” এই বলে অরণ্যের নিস্তব্ধতাকে খানখান করে হাহা করে হেসে উঠলো। কিন্তু সেই হাসি মাঝ পথে থামাতে হলো কারণ সামনের ঝোপটা দুলে উঠেছে। কেউ যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে ঝোপের আড়ালে। আর দাঁড়াবার ফলে পিঠে হলুদের ওপর কালো ডোরা দাগটা তিন জনেরই চোখে পড়েছে।

কৌশিক ,”বাঘ ! গাড়িতে ওঠ কুইক “ বলে দরজাতে মারলো একটা টান। গাড়ির দরজা লকড। ঘটনার আকস্মিকতায় সোমনাথের হাত থেকে চাবি পড়ে গেছে মাটিতে। সেটা তোলার জন্য হাত নামাতেই সে দেখলো ঝোপের পর্দা সরিয়ে মঞ্চে নায়কের প্রবেশের মত বেরিয়ে এলো একটি পূর্ন বয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নিটোল শরীরে তার ধনুকের মতো বাঁক। ভাঁটার মতো দু চোখ জ্বলছে। দক্ষিণ রায় আর তিনজনের মধ্যে যেটা প্রাচীর তুলেছে সেটা শুকনো পাতার ঢিপি।

বাঘের দৃষ্টি সোজা তিনজনের দিকে। এর পর কি ? লাফ ? বাঁচার আর কোনো আশা নেই। সুজয় চোখ বন্ধ করলো।

এর মধ্যে ঘটে গেলো এক আশ্চর্য ঘটনা। সোমনাথ পায়ের একটা আঙুলের টোকায় উল্টে দিলো পেট্রল ভর্তি টিনটা। পেট্রল গড়িয়ে সেই শুকনো পাতার স্তুপ স্পর্শ করতেই হাতের সিগারেটটা ছুঁড়ে দিলো ওটার ওপর। একটা হালকা বিস্ফোরণের মতো শব্দে দপ করে জ্বলে উঠলো পাতার স্তুপ। আগুনের লেলিহান শিখা ছিটকে উঠলো আকাশের দিকে। বাঘটা একটা হুঙ্কার দিয়ে দু পা পিছিয়ে গেলো। আগুনে কাজ হয়েছে। আদিম মানুষের হিংস্র জানোয়ার তাড়াবার বুদ্ধি এই বিজ্ঞানের যুগেও কাজে এসেছে। খাদ্য আর খাদকের মাঝখানে বাধা সৃষ্টি করেছে অগ্নি প্রাচীর। কুন্ডুলি পাকানো ধূসর বর্ণ ধোঁয়ার মাঝে বাঘের অবয়েবটুকু দেখা যাচ্ছে। এবার শোনা গেলো আর একটা শব্দ। এটা গর্জন নয়। মিহি সুরে করুন ডাক। ছাগল ডাকছে। বাঘ ঘাড় ঘোরালো। নরমাংসর চেয়ে খাসির মাংস এই পরিস্থিতিতে অনেক ভালো এটা ভেবে বাঘ ঝোপের ভেতরে ঢুকলো। এর মধ্যে চাবি কুড়িয়ে তিন জনেই ঢুকে পড়েছে গাড়িতে। দু মিনিট সব চুপচাপ। আগুনের তেজটাও কমে এসেছে। হঠাৎ আকাশ বিদীর্ন করে ভেসে এলো একটা ছাগলের তীব্র আর্তনাদ। বাঘ তার শিকার ধরেছে আর প্রায় সাথে সাথেই একটা যান্ত্রিক শব্দ ”ঘটাং।”

কি হলো ব্যাপারটা ? সোমনাথ গাড়িটা নিয়ে একটু এগোতেই একজায়গায় দেখলো ঝোপটা পাতলা হয়ে এসেছে। তার পেছনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একটা খাঁচা। তার মধ্যে একটা মৃত ছাগল আর বন্দি অবস্থায় অসহায় হয়েখাঁচার জালে থাবা দিয়ে আঘাত করছে একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

তিনজনে কোনোক্রমে জঙ্গল পেরিয়ে লোকালয়ে এসে থানায় খবর দিলো। বনদপ্তরের পাতা ফাঁদে বাঘ বাবাজি এখন বন্দি। এবার ওর ঠিকানা হবে সিধে বক্সা অভয় অরণ্যে। জানা গেলো দাঁতাল হাতির তান্ডবে বাঘ লালগড় জঙ্গল ছেড়ে অন্যত্র যাবার সম্ভবনা মাথায় রেখে ঝাড়গ্রামের আসে পাশে জঙ্গলগুলোয় বনকর্মীরা ফাঁদ পেতেছিল। তবে এই জায়গায় তারা শার্দুল বাবুকে খুব একটা আশা করেনি।

তিনজনেই বিধ্বস্ত। ঠিক করলো ওরা আজি কলকাতা ফিরবে। ফেরার পুরো রাস্তাটাই কৌশিক গাড়ি চালিয়ে এলো।

ফেরার পথে বেশ কয়েকটা ফোন পেলো ওরা। বেশির ভাগই মিডিয়া থেকে। বাঘ দেখার অভিজ্ঞতা আর বেঁচে ফেরার অনুভূতি জানতে চায় তারা। সুজয় ভালো কথা বলে। সে-ই বললো কি ভাবে তিনজন প্রকৃতির মোহময়ী রূপের চুম্বকের টানে ওরা গাড়ি থেকে বেরিয়ে শার্দুল সুম্মুখীন হয়ে ছিল। সোমনাথ হেসে বললো ,”তুই পারিস সুজয়। চুম্বকের টান-ফান বলে এই ভয়াবহ ঘটনাটাকে সাহিত্য বানিয়ে দিলি।

রাত দশটায় ওরা বাড়ি ঢুকলো। ততক্ষনে মিডিয়া বাড়ি পৌঁছে গেছে। রিপোর্ট আগেই পেয়েছে। এবার ছবি। স্বামীর কৃতিত্বে গরবিনী বৌ-দের তখন বেশ একটা সেলেব্রিটি স্টেটাস।

পরদিন সকাল। ঘুম থেকে উঠে দরজার দিকে তাকাতেই ভয়ে সোমনাথের বুক কেঁপে উঠলো। সেখানে রণরঙ্গিনী রূপে দাঁড়িয়ে সোমনাথের স্ত্রী মধুজা। তার চাউনি ঠিক আগের দিনের দেখা বাঘটার মতো। ক্ষিপ্র স্বরে বলে উঠলো ,”এই করতে তোমরা বৌদের রেখে বেড়াতে গেছিলে ? ছিঃ ! লজ্জা করেনা ? “

পরের দৃশ্য কৌশিকের বাড়ি। সেখানেও একই অবস্থা। তার স্ত্রী সম্পুর্না চিৎকার করছে ,”বলো কে ছিল সাথে ?”

কৌশিক বললো ,”আরে বললাম তো আমি , সুজয় আর সোমনাথ গেছিলাম। “

সুজয়ের বাড়ি। সেখানেও একই রকম শোরগোল

“তাহলে এটা কি ?” সুজয়ের স্ত্রী নন্দিতা এগিয়ে দিলো সকালের সংবাদ পত্র।

সেখানে লেখা “তিন বন্ধু জঙ্গলে ”চুম্বনের ” টানে গাড়ি থেকে নামলে বাঘের সম্মুখীন হয়। “

সোমনাথ , কৌশিক আর্তনাদ করে বললো ,”আরে বিশ্বাস করো ওটা সুজয় সাহিত্য করে বলেছিলো চুম্বকের টানে আর এরা ফোনে শুনেছে ”চুম্বনের টানে। আমাদের কোনো গন্ডগোল কোত্থাও নেই। গা ছুঁয়ে বলছি। তুমি থাকতে আর কোথাও কি যেতে পারি ? “

ব্যাস ওই কথাতেই স্ত্রী রুপী বাঘিনীরা শান্ত হলো। চোখে জল নিয়ে “সরি” বলে চা আনতে বেরোতেই সোমনাথ কনফারেন্স কলে ধরলো কৌশিক আর সুজয়কে। সাধ মিটিয়ে সুজয়কে গালি দিয়ে যখন ফোন কাটতে যাবে তখনি সুজয় বললো ,”একটা গন্ডগোল করেছি ভাই। ”

– “আবার কি ?” জিগেশ করলো কৌশিক

পরশু রাতে আদিবাসী গ্রামে দুলির সাথে তোদের যে ছবিগুলো তুলেছিলাম সেটা ভুল করে আমাদের হোয়াটসআপ গ্রূপে দিয়ে দিয়েছি “

সোমনাথ চিৎকার করে উঠলো “মানে ? যেটা কমন গ্রুপ? বউরা আছে ?”

– হ্যাঁ

– এখুনি ডিলিট কর।

-ফোনটা না ছাড়লে কি ভাবে করবো ?

এক ঝটকায় ফোন কেটে দিলো সোমনাথ। আর তারপরেই শুনলো মধুজা-র গলা।

-“এসব কি ছবি ?” আবার বাঘের গর্জন।

সোমনাথ আর কৌশিক যে যার বাড়িতে প্রাণ ভয়ে চোখ বুঁজলো। বাঘের থেকে ছাড়া পেলেও বাঘিনীর থেকে আর নিস্তার নেই।

******************************************

শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

#SantanuStory

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *