লাল রং – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

Profile************************************************
ছেলেটা দৌড়োচ্ছে। এ গলি, ও গলি, সে গলি দিয়ে। তাকে যাতে কেউ না ধরতে পারে। সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল একটা পেন্সিল কিনতে। কিন্তু আজ যে হোলি। ওঁৎ পেতে রং হাতে লুকিয়ে আছে কেউ কেউ। ধরতে পারলে আর ছোট কি বড় তার ধার ধরবেনা। লালে লাল করে দেবে কাল রাতে পরে শোয়া সাদা জামাটা। একটু ধস্তাধস্তিও হতে পারে। কারণ সে বাধা দেবে। কিন্তু আজ যে হোলি। তার বারণ কে আর শুনবে? তাই ছেলেটা দৌড়োচ্ছে। ভীষণ জোরে। এ গলি ,ও গলি ,সে গলি দিয়ে। ওই তো বাড়ি। আর কয়েকটা পা মাত্র। কিন্তু একি ওই তো ওরা বেরিয়ে এলো। কোথায় লুকিয়ে ছিল ? রং মাখা লাল হাত। উৎকট সবুজ রঙে মুখে এক নির্মম বীভৎসতা। এরাই তো কাল কত সুন্দর করে কথা বলছিলো। কত উষ্ণতা জড়ানো ছিল তাদের গলায়। আজ কেমন একটা লাগছে। ওই ওরা এগিয়ে এলো। আর কিছু করার নেই। ওদের এড়িয়ে বাড়ি ফেরা মুশকিল। মা অপেক্ষা করছে বললে কি ওরা আর শুনবে ? নাঃ ! শুনলোনা। ধপধপে ছেলেটা টকটকে লাল হয়ে বাড়ি ফিরলো। আকাশে বাতাসে তখন আবিরের গন্ধ।
শহরে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো।

********************************************

থিওরি অফ প্যারালেল ইউনিভার্স বলে পৃথিবীর আরও কোথাও একই ঘটনা ঘটে একই সময়। শুধু প্রেক্ষাপটটা আলাদা।
তাই সেখানেও ছেলেটা দৌড়োচ্ছে । খুব জোরে দৌড়োচ্ছে। সেখানেও লোকগুলো ওঁৎ পেতে আছে । ছেলেটা এ গলি, ও গলি, সে গলি ঘুরে প্রায় যখন বাড়ির কাছে তখনি দেখতে পেলো বীভৎস কিছু মুখ। টকটকে লাল তাদের হাত। ছেলেটা চিৎকার করে বললো ,”ছেড়ে দাও। বাড়িতে মা অপেক্ষা করছে যে।” ব্যাস ওইটুকুই। তারপর ছেলেটা লালে লাল হয়ে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে। বাড়ি অবধি তার আর যাওয়া হলোনা। আকাশে বাতাসে তখন বারুদের গন্ধ।
সিরিয়াতে সন্ধ্যে নেমে এলো।

(এ হত্যালীলা বন্ধ হোক !)
************

শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

#SantanuStory

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *