মারমেড – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

My Profile Pic**********************************

-“বাবা ও বাবা”
– “হুঁ”
– “তুমি মারমেডকে চেনো ?”
– “মারমেড মানে মৎসকন্যা |”
– “সেটা কি ?”
– “ভীষণ সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে। একদম পরীর মত মুখ আর পা দুটো মাছের মতো।”
-“তুমি দেখেছো ? ও বাবা বলোনা দেখেছো ?”
– “দেখেছি কি রে ? আমি কথা বলেছি।”
– “বলো কি বাবা !”
-“হুঁহুঁ ! তা না হলে আর বলছি কি !”
– “কোথায় কথা বললে ?”
– “কেন ? দীঘায় ।”
– “মা দেখেনি ?”
– “মা যায়নি তো। আমি একাই গেছিলাম সেবার। আমি আর মারমেড অনেক গপ্প করলাম। খাওয়া দাওয়া করলাম।”
– “তুমি আমায় উল্লু বানাচ্ছো না তো !”
– “না রে !”
– “আমার সাথে মারমেডের দেখা হলে জিগেস করবো ?”
– “নিশ্চই করবি। তাহলেই বুঝবি আমি গুল দিই না। যা যা ভাগ এখন কাজ করতে দে।”
বাবলু চলে গেলো। সবে ক্লাস ওয়ানে উঠেছে। সব ইংরিজি মানে খুঁটিয়ে জানা চাই। এই শব্দটা নতুন শুনেছে।
মা ব্যস্ত। তাই বাবার স্মরণাপন্ন হয়েছে। না হলে পড়াশুনো ব্যাপারটা মা -ই দেখিয়ে দেয়।
পরেরদিন বাবলুর বাবা সুকান্ত বাড়ি ফিরে অনুভব করলো বাড়িতে একটা আশ্চর্য থমথমে ভাব। ঝড়ের পূর্বাভাস। এই পরিবেশ সে চেনে। তার স্ত্রী নয়না এমনিতে শান্ত কিন্তু রেগে গেলে রণচন্ডী। আজ যেন সেই রণচন্ডী রূপের আগমনী সুর তার কানে বাজলো।
বেডরুমে ঢুকে সবে কোটটা খুলেছে আর তখনি নয়নার আবির্ভাব ঘটলো। শ্লেষ ও ব্যঙ্গ সম অনুপাতে মিশিয়ে সে বললো “রত্নার সাথে দীঘা গেছিলে সেটা আমাকে সঙ্গত কারণেই লুকিয়ে গেছো কিন্তু ছেলেটাকে কোন আক্কেলে গল্প করেছো ?”
সুকান্ত আকাশ থেকে পড়লো ! রত্নার সাথে দীঘা ! নয়না কি পাগল হয়ে গেছে। তার মত চরিত্রবান নিপাট ভদ্রলোককে এই কলঙ্ক কেউ দেবে সেটা সে ভাবতেই পারেনি।
বাড়ির কাজের লোক রত্নার সাথে স্ক্যান্ডাল ! ছিঃ
সুকান্ত ঝাঁঝিয়ে উঠলো ,”কি আবোল তাবোল বলছো ? ”
নয়না এবার গলাটা আর একটু চড়িয়ে বললো,”আমি না। বাবলুর পুরো স্কুল বলছে। কাল রাতে তুমি ওকে যা বলেছো সেটা ওর টিচারকে বলেছে আর টিচার আমায় ডেকে ছুটির সময় কি কথাটাই না শোনালেন। লজ্জায় মনে হচ্ছিলো আমি সুইসাইড করি। “
সুকান্ত এবার বেশ রেগে সোজা বাবলুকে গিয়ে চার্জ করলো।
-“তুই কি বলেছিস স্কুলে ? ”
বাবলু সরল মুখে বললো ,” বাঃ ! তুমি-ই তো বললে কাল যে তুমি মারমেডের সাথে দিঘায় গল্প করেছো “
সুকান্ত নয়নার দিকে তাকিয়ে বললো হলো তো ,” আমি মৎসকন্যা নিয়ে মজা করেছিলাম। রত্নাকে নিয়ে নয় “
নয়না দুহাতে চোখ ঢেকে বসে পড়েছে। তার পুরো শরীর কাঁপছে। সুকান্ত ভয় ভয় হাতটা সরিয়ে দেখলো নয়না আসলে পাগলের মত হাসছে। হাসতে হাসতেই সে বললো ,”একদিন ছেলেকে পরিয়ে যা ধুন্ধুমার কান্ড বাধিয়েছো তাতে তোমার ওপর আর ছেলে পড়ানোয় ভরসা করতে পারবোনা। ওকে স্কুলে মারমেড নয় শুধু মেড শিখিয়েছিলো। অর্থাৎ বাড়িতে যে কাজ করে। আর ও মা’র মেড মানে মৎসকন্যা নয় রত্নাকে মিন করেছিলো। আরও করো ছেলের সাথে ছ্যাবলামো। ”
সুকান্ত কোটটা ওই ভাবেই ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। বাংলায় যাকে বলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় !
*********************************
শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)
Copyright : Any adoption, publication, translation, film or any other form this story cannot be  done without proper approval of the author.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *