“জাগো দূর্গা “- শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

(শিশু নির্যাতন বন্ধ হোক )

-“যা বাড়ি যা। কি হলো ? কাঁদছিস কেন ? কিচ্ছু হয়নি। বাড়ি যা। আর শোন ওই কথাটা মনে আছে তো? কাউকে যদি বাইরে গিয়ে বলিস তো পরের পরীক্ষায় ফেল। এই দেখো এখনো দাঁড়িয়ে কাঁদছে। বাড়ি যা! বাড়ি যা ! আর শোন ওখানে আমার বেল্টটা পড়ে আছে ওটা দিয়ে যা “

ক্লাস ফোরের মেয়েটা বাইরে এসে দাঁড়ালো। এখনো চোখে জল। স্কুলে কেউ জিগেস পর্যন্ত করলোনা ওর কি হয়েছে। সবাই ধরেই নিলো বন্ধুদের মধ্যে ঝগড়া।
ওদিকে পিটি টিচারও বাথরুম থেকে বেরিয়ে পা বাড়ালো স্টাফ রুমের দিকে। ভালো ব্ল্যাকমেলের উপায় বের করেছে। বেশ কদিন তার পশুবৃত্তি খুব এক্টিভ হয়ে উঠেছে। সেই পশুকে শান্ত করার কোনো বাসনা নেই তার।
মেয়েটা কাজের লোকের হাত ধরে বাড়ি ফিরলো। বাড়িতে তুমুল হৈচৈ। ওর তিন বছরের ভাই এক কান্ড ঘটিয়েছে। পাশের বাড়ির পল্টুদা প্রায়ই আসে।আজও এসেছিলো। ওর ভাইকে কোলে নেবার জন্য জোরাজুরি করছিলো। ভাইয়ের আবার অন্য লোকের কোলে যাওয়াতে ঘোর আপত্তি। পল্টুদা যখন তাও জোর করে, একরকম ছিনিয়ে নিয়ে ভাইকে কোলে নিলো তখন সেই দামাল ভাই তার ডানহাতের না কাটা নখ দিয়ে পল্টুদার চোখ খামচে দিয়েছে। পুরো রেটিনায় আঘাত। বাবা পল্টুদাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে।
মা ভাইকে বলছে ,”ইস ! কি বাজে কান্ডটাই না করলি ! বেচারা পল্টু আর কখনো কোলে নেবেন তোকে। ”
ভাইকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত। মেয়ের শুকিয়ে যাওয়া চোখের জল কেউ দেখলোনা।
পরদিন মেয়েটা আবার স্কুলে গেলো। টিফিনে ডাক পড়লো যথারীতি। পিটি স্যার ডাকছে। সেই হিংস্র চাহুনী। বাথরুমের সামনে ছুটির পর আসতে বলে চলে গেলো। না গেলেই পরীক্ষায় ফেল।
ছুটির পর দারোয়ান টুলে বসে খৈনি ডলছিল। বেশির ভাগ স্টুডেন্টই বাড়ি চলে গেছে। কয়েকজন আছে যারা একটু দেরি করে পুল কারে যায়।
হঠাৎ একটা প্রচন্ড চিৎকার। দারোয়ান উঠে দাঁড়ালো। আবার চিৎকার। দারোয়ান কান খাড়া করলো। একতলায় স্টাফ বাথরুমের দিক থেকে আসছে। দারোয়ান ছুটলো। সাথে কিছু স্কুলেরই কর্মচারী যারা বাড়ি ফেরার জন্য তৈরী হচ্ছিলো।
আওয়াজ আসছে বাথরুম থেকেই। বাথরুম ভেতর থেকে বন্ধ। তিন ধাক্কায় ছিটকিনি ভেঙে ঢুকলো ওরা।
মুখে হাত দিয়ে মেঝেতে শুয়ে পিটি টিচার কাতরাচ্ছে। বাঁ চোখ দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝরছে। ইউরিনালের নীচে একটা মোবাইল পড়ে। সেখানে একটা ভিডিও চলছে। আর দেয়ালের এক কোনায় প্রচন্ড ভয়ে সন্ত্রস্ত মুখে দাঁড়িয়ে মেয়েটি। ওর হাতে সদ্য লক্ষ্যভেদ করে আসা একটা পেন্সিল। প্রচন্ড সরু করে কাটা। পেন্সিলের ডগায় রক্ত লেগে। যেন ছোট্ট দেবী দূর্গা অসুর নিধনের পর হাতে ত্রিশূল নিয়ে দাঁড়িয়ে।
পুলিশের কাছে জেরায় পিটি টিচার সব স্বীকার করে নেয়। আদালতের দেয়া শাস্তির সাথে আর একটা শাস্তি তার হয়েছিল। বাঁ চোখে সে আর দেখতে পায়না।
মেয়েটি এখন নির্ভয়ে স্কুলে যায়। শুধু সেই পেন্সিলটা কখনো হাত ছাড়া করেনা।
*****************************************
শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)
#SantanuStory

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *