ভাগ্যচক্র – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

(গল্পের সব চরিত্র কাল্পনিক। কোন ব্যক্তি বা ঘটনার সাথে সাদৃশ্য নিতান্তই কাকতলীয় ) **************************************************************************** -“ব্যাপার কি ডঃ পান্ডে? আপনি এই অসময় ?” হুইস্কির গ্লাসে দ্বিতীয় চুমুকটা দিয়ে বললেন ডঃ সাক্সেনা | বাড়ির সামনে বিশাল লন।  সেখানে গোলাকৃতি ছাতার নিচে রোজ সন্ধ্যাবেলা সুরা পানে বসেন  চাইল্ড হেলথ কেয়ার নার্সিংহোমের সুপার ডঃজগদীশ সাক্সেনা। সারাদিন নার্সিং হোমে কাটিয়ে এই সন্ধেটা একটু মৌতাত করেন। ডঃ পান্ডে একটু চিন্তিত ভাবে বললেন ,” আরও দুটো ” নির্লিপ্ত ডঃ সাক্সেনা গ্লাসটা নামিয়ে বললেন ,” কখন ?” – “সন্ধ্যেবেলা। একটু আগে ” – ” টোটাল কত হলো ” – ” বাইশ।  টোয়েন্টি টু ” – “হুম ” – ” কিছু একটা করুন স্যার। যেখান থেকে হোক অক্সিজেন আনান। এভাবে একটার পর একটা শিশুগুলো মারা যাচ্ছে। এতো মেনে নেয়া যায়না” আর্তনাদের মতো বলে উঠলেন ডঃ পান্ডে। ডঃ সাক্সেনার কপালে হালকা ভ্রুকুটি দেখা গেলো। উল্টোদিকের চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে ডঃ পান্ডেকে বসতে বলে বললেন, ” আপনার জন্যহুইস্কি ঢালি ?” সম্ভ্রমের সীমা ছাড়িয়ে ডঃ পান্ডে চেঁচিয়ে উঠলেন ,” আপনি কি মস্করা করছেন ? একটার পর একটা মায়ের কোল খালি হয়ে যাচ্ছে আর আপনিআমায় হুইস্কি অফার করছেন ?” ডঃ সাক্সেনা মৃদু হেসে বললেন ,” মহাভারত পড়েছেন ?” – ” পড়েছি কিন্তু এখানে তার কি সম্পর্ক ?” -” সম্পর্ক আছে ডঃ পান্ডে। ভীষ্ম জন্মাবার আগে ছয়টি শিশুকে মরতে হয়েছিল। জানেন বোধহয়। কৃষ্ণ জন্মাবার আগে সাতজন শিশু কংসেরহাতে মারা পড়েছিল।  তাই বলছি শিশু মৃত্যু নতুন কিছু নয় ! আর কি জানেন এরা সবাই ছিল ঈশ্বরের দূত। এদের পাপের জন্য শাস্তি হয় মর্ত্যএকবার জন্ম নিতে হবে। তারপরেই মুক্তি। কে জানে ; এই যে শিশুগুলো মারা যাচ্ছে এরা হয়তো আসলে মুক্তি লাভ করছে। ভবিতব্য ডঃ পান্ডেভবিতব্য। একি আপনি বা আমি খন্ডাতে পারবো ?” ডঃ পান্ডে শ্লেষ মিশিয়ে বললেন ,”আপনার এই যুক্তি আদালতে চলবে তো ?” ডঃ সাক্সেনা একটা ধূর্ত হাসি দিয়ে বললেন ,”চলবে কি ? চলে গেছে। যতদিন ধর্ম ব্যাপারটা জীবিত আছে ততদিন এসব সুড়সুড়িতেই কাজ হয়েযাবে। ” ডঃ পান্ডে অসহায়ের মতো বললেন ,”তাহলে কি কোনো ব্যবস্থা নেবেন না ?” -” ব্যবস্থা নেবার যো নেই পাণ্ডেজি ! পেছনে বড় চক্র। অক্সিজেন এখন ভালো ব্যবসা !” বাকরুদ্ধ ডঃ পান্ডে আর কথা না বাড়িয়ে ফিরে এলেন হাসপাতালে। বাইরে তখন পুলিশ ভর্তি। সন্তান হারা মায়ের কান্নায় কান পাতা দায়। সদ্যপুত্রহারা কমলি আর তার স্বামী রাজু  পাথরের মত বসে আছে। চোখের জলও যেন শুকিয়ে গেছে। এমন সময় এম্বুলেন্সের ভোঁ শোনা গেলো।আরেকটি শিশু এসেছে। ধুম জ্বর। অক্সিজেন লাগবে। শিশুটিকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে আসা হলো ডঃ পান্ডের কাছে আর দেখেই চমকে উঠলেনতিনি। এই শিশুকে তিনি আগেও দেখেছেন | একবার নয়। বেশ কয়েকবার। ডঃ সাক্সেনার বাড়িতে। কোনো সন্দেহ নেই এই শিশুই ডঃ সাক্সেনারনাতি ভিকি। ছেলের সাথে সদ্ভাব নেই আর তাই তারা আলাদা থাকে। কিন্তু নাতিটি তাঁর অতি প্রিয়। তাই চাকর রামশরণ বিকেলে একবার করেনিয়ে আসে দাদুর কাছে। ডঃ সাক্সেনা বলেছিলেন ,”ওইটুকু সময় আমি নতুন জীবন পাই ” ডঃ পান্ডে ফোন করলেন ডঃ সাক্সেনাকে আর কিছুক্ষনের মধ্যেই সেখানে হাজির হলেন উদ্ভ্রান্ত সাক্সেনা। ভিকির কপালে হাত দিয়ে স্টেথোঠেকালেন বুকে আর তারপর পাগলের মতো চিৎকার করে বললেন ,”অক্সিজেন লাও ” কোথায় অক্সিজেন ? একটু একটু করে নীল হয়ে যাচ্ছে ভিকির দেহ। ডঃ সাক্সেনা ড্রাইভারকে বললেন ,”গাড়ি নিকালো। অভি ইসকো শহর লেযানা হ্যায় ” নিজেই পাঁজাকোলা করে তুলে নিলেন ভিকিকে। সামনে দরজা। বেরিয়েই গাড়ি। কিন্তু একি ? দরজা আগলে দাঁড়িয়ে ডঃ পান্ডে। হিমশীতল গলায় বললেন ,” কোথায় যাচ্ছেন স্যার ? ও তো দেবতার দূত। ওকে মুক্তি দিন। এযে ওর ভবিতব্য। ” ডঃ সাক্সেনা প্রায় উন্মাদের  মতো বলে উঠলেন ,” সরে যাও। এসব কথা বলার সময় এটা নয়। দেখছোনা ও কেমন নীল হয়ে যাচ্ছে ” ডঃ পান্ডে বললেন, “ঠিক এইভাবে একটু একটু করে নীল হয়ে বাইশ জন মারা গেছে এই বেলাপুরে। কই তখন তো চোখে পড়েনি ?” ডঃ সাক্সেনা ভিকিকে বুকে চেপে ধরে বললেন ,” ক্ষমা করে দাও। আমার পাপের শাস্তি  এই শিশুটাকে দিওনা।  ও তো নিষ্পাপ ” -” যানে দিজিয়ে ডঃ সাব। অভি যায়গা তো বাঁচ সাকতা হ্যায় ” কথাটা এলো পেছন থেকে এক মহিলা কণ্ঠে। চকিতে ঘুরে তাকালেন ডঃ পান্ডে। কখন সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে কমলি আর তার স্বামী। কমলি পাথরের মত দাঁড়িয়েই বললো , ” ঔর মা কে কোখ খালি মাত কিজিয়ে। ” নিচে চোখ পড়তে ডঃ পান্ডে দেখলেন তাঁর পা জড়িয়ে বসে আছে ভিকির মা , ডঃ সাক্সেনার পুত্রবধূ অজান্তেই ডঃ পান্ডের হাত নেমে গেলো। নাতিকে কোলে নিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেলেন ডঃ সাক্সেনা। ধোঁয়া ছেড়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো তাঁর গাড়ি। ********************************************************************** সেদিন রাতেই হসপিটালে অক্সিজেন এলো। বাকি শিশুগুলো সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলো একে একে। ভিকিও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ডঃ পান্ডেরএখন চরম ব্যস্ততা কারণ তিনিই নতুন সুপার। আর ডঃ সাক্সেনা ? আপাততঃ হাজতে। বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। কিন্তু সে বিচার কতদূর হবেসেটা নিয়ে সংশয় আছে। গত কদিন তাঁর কিছু অসংলগ্ন ব্যবহার চোখে পড়ে। সবসময় কল খুলে হাত ধুতে দেখা যায়। জিগেস করলে বলেন ,”শিশুদের রক্ত লেগে আছে। ধুচ্ছি ; কিন্তু উঠছেনা ” ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে আগামীকাল নিয়ে যাওয়া হবে মানসিক রুগীর হাসপাতালে। এখন কদিন সেটাই তাঁর ঠিকানা। ************************************************************************************************************* শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

নীল রঙের কাঁটা – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

************************************ স্কুলের পর সন্ধ্যের টিউশন সেরে বাড়ি ফিরে খাটের ওপর গিফট গুলো সাজিয়ে রাখলো দূর্বা। কলকাতার নামী ইস্কুলে ইংরেজি পড়ায় সে। তারপর সোম টু শুক্র সন্ধ্যেবেলা একটা কোচিং সেন্টার-এ ক্লাস নেয় |স্বামী বিতান নাম করা পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট কন্সাল্ট্যান্ট। এটা নতুন হয়েছে আর ক্রেজ ভালোই। অনেক মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি বিতানের ক্লায়েন্ট। কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই তাকে বাইরে …

Read More

নীল তিমি – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

—————————————– আর বলবেন না ! খুব জোর বেঁচে গেছি। পড়বি তো পড় এক্কে বারে জাহাজ থেকে। আরে হ্যাঁ ! তা না হলে বলছি কি ! আচ্ছা ডিটেলে বলছি। তো আমি জাহাজে করে ফিরছি কোলান দ্বীপ থেকে। কোলান দ্বীপ অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম প্রান্তে আর পার্থ শহরের উত্তরে। দ্বীপটি লোহার জন্য বিখ্যাত। জাহাজ যখন মাঝ সমুদ্রে তখন শুরু …

Read More

স্বাধীনতা দিবস – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

************************************** এফ এম রেডিও জকি স্যামের খুব নাম ডাক। আসল নাম শ্যামলেন্দু সরকার। কিন্তু ওই নামে appeal নেই। তাই নাম পাল্টে স্যাম করতে হয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে সামনে। আজকাল আর পাঁচটা জিনিসের মতো ওটাও পণ্য। একটা রোড শো করতে হবে। যে কোনো কথায় মজা খুঁজে বের করে লোকেদের নিয়ে খোরাক করাই স্যামের ইউ এস পি। আজ …

Read More

রাখি পূর্ণিমা – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

************************************************ উত্তর প্রদেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই গ্রামটা। নাম বালদেওপুর। সেখানেই ছেলেটার বাড়ি। ছেলেটাকে সবাই আদর করে মুন্না বলে ডাকে । বাপ্ মায়ের বড় আদরের একমাত্র সন্তান। পরিবারের চোখের মনি। বয়স হবে সাত কি আট । কিন্তু এর মধ্যেই দারুন চৌখস। স্কুলে ফার্স্ট হয়। সবাই বলে বড় হয়ে মস্ত ডাক্তার হবে আর বাবা মায়ের মুখ …

Read More

বন্ধু  – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

(হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ ডে) ************************ -“তুমি আমার বন্ধু হবে ? ” প্রশ্নটা যে করলো তার বয়েস সাত আর যাঁকে করা হলো তাঁর তেষট্টি। প্রৌঢ় ভদ্রলোকের নাম বিশ্বমোহন চক্রবর্তী। সবাই ডাকে বিশুবাবু বলে। অবশ্যি সেটা কোলকাতায় ভবানীপুর অঞ্চলে । এই পান্ডব বর্জিত দেশেতাঁকে কেউ চেনে না। এই জায়গাটার নাম পিয়ালতলি। পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম। পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গাটা কেন যে ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির অগোচরেথেকে গেছে সেটাই ভেবেছিলেন একটা শীর্ন কায়া নদীর পাড়ে  বসে। আর ঠিক তখনি ছেলেটার আবির্ভাব ও তার প্রশ্নে বিশু বাবুর ধ্যান ভঙ্গ। বিশুবাবু জিগেস  করলেন , “কি নাম তোর?” ছেলেটা বললো , “লখাই  ” -” কোথায় থাকিস ?” – ” এই গাঁয়েতেই থাকি। হুই দূরে যে ইস্কুলবাড়ি আছে। ওখানেই আমাদের ঘর।  বাবা ইস্কুলের দারোয়ান। ” -” কোন ক্লাসে পড়িস ?” -” আমি ইস্কুলে পড়িনা গো। বাপের পয়সা নাই। ” -” তোর বাবা স্কুলের দারোয়ান আর তুই স্কুলে পরিসনা ?” এর কোনো উত্তর না দিয়ে লখাই হিহি করে হাসতে লাগলো।  যেন কতইনা মজার কথা বলা হয়েছে। সে আবার জিগেস করলো ,” আমার বন্ধু হবে ?” বিশুবাবু বললেন ,” কেন তোর বন্ধু নেই ?” লখাই বললো ,” আছে তো। হারু , মানিক , গোপাল , নাটু এরা সবাই আমার বন্ধু ” -“তাহলে এই বুড়োর সাথে বন্ধু পাতাচ্ছিস কেন ? -“তোমার কোনো বন্ধু নেই বলে। একা থাকা খুব কষ্টের ” মুহূর্তের মধ্যে বিশুবাবুর মনে এক লক্ষ বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। কি বলছে ছেলেটা। ও কি অন্তর্যামী ? ও কিকরে বুঝেনিলো বিপত্নীক বিশুবাবুরমনের একাকিত্ব। স্ত্রীর মৃত্যুর পর এক ছেলে প্রায় একঘরে করে রেখে দিয়েছিলো বৃদ্ধ বাবাকে।  সংসারে কিছু জিনিস থাকে যা ফেলাও যায়না আর রাখতেও কষ্ট।তাদের মধ্যে বিশুবাবু ছিলেন একজন। যখন তিনি মোটামুটি নিজেকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন তখন একদিন কাউকে না বলে খুবভোরে হাওড়া থেকে চেপে বসলেন রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে। এই জায়গাটার নাম সাজেস্ট করেন বিশুবাবুর বন্ধু নরেন সমাদ্দার। । প্রকৃতির মাঝেশান্তি খুঁজতে বেড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। এতক্ষনে লখাই এসে বিশুবাবুর পাশে বসেছে। বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের সোনালী আভায় নদীর জল গলিত অলংকারের প্রবাহমান ধারার মতো বয়েচলেছে। পাখিরা তাদের ঘরে ফেরার উচ্ছাসে কলকাকলিতে ভরিয়ে দিয়েছে বিকেলের বাতাস। দূরে একটা পাথরের ওপর দুটো অসম অবয়ববিশিষ্ট ছায়া মূর্তি তাদের কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো লখাই বিশুবাবুকে নদীর উৎস বর্ণনা করছে  আবার কখনো বিশুবাবু লখাইকেবোঝাচ্ছেন বিভিন্ন ঋতুতে নদীর চরিত্র কিভাবে বদলায়। অন্ধকার আরও ঘনিয়ে এলে লখাই বললো “চলেন বাবু। এখানে আর বসবো না।” বিশুবাবু বললেন ,” আমি এবার ট্রেন ধরবো রে। আবার পরেএকদিন আসবো ” লখাই বললো ,” নানা বাবু। আজ যাওয়া হবে না। তুমি কাল যেও। আজ আমাদের বাড়ি চলো। ” নতুন বন্ধুর অনুরোধ রাখতেই হলো বিশুবাবুকে। স্কুলঘরের পাশে সারি দেয়া ছোট ছোট বাড়ি। তারই একটা লখাইদের। বিশুবাবুকে লখাই বললো ,” আপনি বসেন আমি বাবাকে নিয়ে আসছি ” লখাইয়ের বাবা শিবনাথ তখন ইস্কুলের দরজায় তালা দিচ্ছে। তাকে গিয়ে লখাই বললো ,”বাবুটা  এসেছেন। চলো ” শিবনাথ তাড়াতাড়ি করে ঘরে এসে দেখলো বিশুবাবু বসে আছেন। তাঁকে একটা প্রণাম করে শিবনাথ বললো,” আজ্ঞে আমায় চিনতে পারছেনবাবু ?” ভালো করে দেখলেন বিশুবাবু। কই  না তো। চেনা যায়না। -” আমি শিবনাথ বাবু।  আপনাদের বাড়ির দারোয়ান গোপিনাথের ছেলে ” -“শিবনাথ তুই ?” চমকে উঠলেন বিশু বাবু। মুহূর্তের মধ্যে সব মনে উড়ে গেলো। বাড়ির দারোয়ান গোপীনাথকে গ্রাম থেকে নিয়ে গিয়েই চাকরি দিয়েছিলেন।ছেলে শিবনাথকে অসম্ভব ভালোবাসতেন তাঁর স্ত্রী সৌদামিনী। একরকম সৌদামিনীর উদ্যোগেই শিবনাথকে একই স্কুলে ভর্তি করান নিজেরছেলে সুধীন্দ্রের সাথে। দারোয়ানের ছেলেকে বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতে তার ছিল ঘোর আপত্তি। শেষে একদিন স্পষ্ট সে বাপকে জানিয়ে দিলোবাড়িতে হয় শিবনাথ থাকবে নয় সে। অন্ধ পুত্র স্নেহের বশবর্তী হয়ে দরোয়ান গোপীনাথকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দিলেন। গোপীনাথ পিয়ালতলি ফিরে এলো ছেলে শিবনাথকে নিয়ে।সৌদামিনী খুবই আঘাত পেয়েছিলেন কিন্তু বিশুবাবুর কাছে সে আঘাত তার পুত্র বাৎসল্যের চেয়ে বড়  নয়। বিশুবাবুর চোখে জল। শিবনাথের দু হাত ধরে বললেন ,” আমায় ক্ষমা করে দে শিবু। ভগবান আমায় শাস্তি দিয়েছেন। আমার ছেলেটা শিক্ষিতহয়েছে কিন্তু মানুষ হয়নি। আজ ওই বাড়িতে আমার অবস্থা অনেকটা গোপীনাথের মতো ” শিবনাথ হাঁটু মুড়ে নিচে বসে বললো এ কি   বলছেন বাবু। আমার কাছে ক্ষমা চাইছেন ?আমার পাপ হবে যে। আপনি আমার বাবার মতো।সকালেই আপনাকে দেখে চিনতে পেরেছিলাম। ভয়ে ডাকিনি। ছেলেটাকে এসে বললাম কলকেতের বাবু এসেছে। ও বললো আমি বাবুকে নিয়েআসছি ” বিশুবাবু লখাইকে বুকে টেনে নিলেন। তার চোখ থেকে জল ঝরেই চলেছে। লখাই বললো ,” তুমি আর বাড়ি যেওনা। ওখানে তোমার কষ্ট হয়। তুমিআমার সাথে থাকো। আমি তোমার বন্ধু হব। ” বিশুবাবু চোখের জল পাঞ্জাবির আস্তিন দিয়ে মুছে বললেন , “থাকতে পারি যদি তুই আমায় একটা কথা দিস” -“কি কথা ?” লখাই জিগেস করে -“তুই যদি আবার স্কুলে যাস ” লখাই চোখ গোল গোল করে বলে “টাকা পাবো কোথায় ?” বিশুবাবু এবার মুখে একটা হাসি এনে বললেন ,” কেন তোর বন্ধু আছে তো। বন্ধুদের কথা দিলে রাখতে হয় কিন্তু। কিরে যাবি তো ?” লখাই কোনো উত্তর না দিয়ে দরজার দিকে দৌড়োতে শুরু করলো। বিশুবাবু চিৎকার করে বললো ,” কোথায় যাচ্ছিস লখাই ?” লখাইকে আর দেখা যাচ্ছে না। বাইরে থেকে শুধু একটা উত্তর এলো ,”কাল  ইস্কুলে যাবো ,হারুর কাছে আমার সহজ পাঠ বইটা আছে ওটা নিয়েআসি। তুমি একটু বসো বন্ধু ” ****************************************************************************************************** – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

দিলদার আলী – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

********************************** (Lucknow- 4.8.2017) ********************************** অফিসের কাজে প্রায়ই আমার বাইরে যেতে হয়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত এ ভাবেই ঘোরা হয়ে যায়। তো এবার কাজে এসেছি লক্ষ্নৌতে। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্নৌ। লক্ষণের দেশ লক্ষ্নৌ। আগে এসেছিলাম একবার। সেটা বছর দশেক আগে। তার থেকে অনেকটাই বদলে গেছে শহরটা। বেশ একটা নিউ এজ টাইপের হ্যাপেনিং ব্যাপার এসেছে “জনাব ” আর …

Read More

ফেলুদা ফিরে এলো  —— শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

  ****************************************************** –১– বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক লালমোহন গাঙ্গুলী ওরফে জটায়ুর কোনো পাত্তা নেই। তাঁর এই prolonged absence -এর কারণ ফেলুদাকে জিগেস করাতে ও বললো যে গত দুদিন ওটা নিয়েই ভেবেছে। ভদ্রলোক মোবাইল ব্যবহার করেননা আর ল্যান্ড ফোনটাও সম্ভবত খারাপ। ফেলুদা বললো, ” আজ একবার ওঁর গড়পাড়ের বাড়িটা ঢুঁ মেরে আসবো। রেডি …

Read More

উল্টোরথ – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয় )

  অমিতাভ দাশগুপ্ত ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে একবার আড়চোখে দেখে নিলো টিকিট ঘরের গায়ে কৃষ্ণচূড়া গাছটাকে। তারপর হাতব্যাগটা গলায় ঝুলিয়ে ,ওভারব্রিজটা পেরিয়ে যখন সে স্টেশনের বাইরে এলো তখন বুঝলো যে গাছটার নিচে একটা ছোটোখাটো মেলা বসেছে। উল্টো রথের মেলা। জায়গাটার নাম কেয়াঝোরা। সিঙ্গল লাইন ট্রেন। একটা সকালে আর একটা বিকেলে। সকালের ট্রেনটা ধরে অমিতাভ কলকাতা …

Read More

লেখা চুরি – শান্তনু মুখোপাধ্যায় (জয়)

***************************** “দিবালোক” পত্রিকার সম্পাদক বিপুল মজুমদার চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালেন। রাত আটটা সতেরো। সাড়ে আটটায় টিভি সিরিয়ালটা শুরু হয়। বিপুল বাবু ওটা নিয়ম করে দেখেন। পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়াও গোটা দুয়েক বই লিখেছেন। গত বইমেলায় একটা উপন্যাস বেরিয়েছে কিন্তু সে ভাবে চলেনি। লেখাটা যে নেহাৎ মাঝারি মাপের সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও …

Read More